প্রিয় নাবিক ভাইয়েরা আপনারা কেমন আছেন। যারা দ্বিতীয় শ্রেণির ইনল্যান্ড মাস্টারশীপ পরীক্ষা নিয়ে ভাবছেন। তাদের জন্য আমাদের এই আয়োজন। কিভাবে সেকেন্ড ক্লাস পরীক্ষার জন্য শুরু থেকে শেষ পযন্ত সব তথ্য পাবেন আমাদের এই আর্টিকেলে। সেকেন্ড ক্লাস মাষ্টারশীপ পরীক্ষার পর কিন্তু অনেকেই বিভিন্ন চাকরিতে বা জাহাজে ইনচার্জ হিসেবে চাকরি পেতে পারেন। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কোর্স বা পরীক্ষা নিয়ে কিভাবে শুরু করবেন পড়ে নিন আমাদের লেখাটি। নিচে দ্বিতীয় শ্রেণির ইনল্যান্ড মাস্টার সার্টিফিকেট এই সার্টিফিকেটের যোগ্যতা, পরীক্ষা পদ্ধতি, সিলেবাস এবং প্রস্তুতি নিয়ে একটি সম্পূর্ণ গাইডলাইন আলোচনা করা হলো।
সেকেন্ড ক্লাস মাস্টার সার্টিফিকেট কি
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের আওতাধীন অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষাটি পরিচালিত হয়। এই সার্টিফিকেট অর্জনকারী একজন মাস্টার সাধারণত মাঝারি আকারের অভ্যন্তরীণ নৌযানের ইন-চার্জ বা মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা
০১. শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
০২. বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স সাধারণত ন্যূনতম ২১ বছর হতে হবে।
০৩. যোগ্যতা সার্টিফিকেট: তৃতীয় শ্রেণির মাস্টারশীপ সার্টিফিকেট।
০৪. চোখের দৃষ্টিশক্তি: বর্তমানে প্রস্তুতিমূলক কোর্স করার সময় চোখের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে কালার ভিশন হলে কোর্স বাতিল করা হয়। তবে দৃষ্টিশক্তি কম হলে কোনো সমস্যা নেই।
- মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিহাস
- চট্টগ্রাম বন্দর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি লস্কর গ্রিজার ও ড্রাইভার পদে আবেদন করুন
- ১ম শ্রেণির মাস্টারশীপ পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান
- নৌ অধিদপ্তর ২য় শ্রেণির ইনল্যান্ড মাস্টারশীপ পরীক্ষা ভাইভা সহ সমাধান
- ২য় শ্রেণির ইনল্যান্ড মাস্টারশীপ পরীক্ষার প্রশ্ন ও সমাধান
০৪. চাকরির সময়সীমা: ০১. দুই বছর কোনো জাহাজে ইনচার্জ মাস্টার হিসেব চাকরি করা
০২. কোনো জাহাজে সেকেন্ড মাস্টার হিসেবে ২.৫ বছর চাকরি করা।
০৩. কোনো জাহাজে ৩ বছর সুকানি হিসেবে চাকরি করা।
উল্লেখ্য, অবশ্যই সার্ভিস বুক থাকতে হবে। বর্তমানে যেটা একটা নাবিক প্রোফাইল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যার মাধ্যমে পরীক্ষার আবেদন ও করা যায়।
দ্বিতীয় শ্রেণির ইনল্যান্ড মাস্টারশীপ পরীক্ষা পদ্ধতি
দ্বিতীয় শ্রেণির ইনল্যান্ড মাস্টারশীপ পরীক্ষা সাধারণত তিনটি প্রধান ধাপে অনুষ্ঠিত হয়: সব পরীক্ষা গুলো কিন্তু ঢাকার আগারগাঁও, সেরেবাংলা নগর থানার পাশের ডিজি শিপিং অফিসে অনুষ্ঠিত হবে।
১. লিখিত পরীক্ষা: এই ধাপে প্রার্থীর তাত্ত্বিক জ্ঞান যাচাই করা হয়। ২০ মার্কের একটা পরীক্ষা নেওয়া হয়। সময় ২০-২৫ মিনিট। প্রথম ১০ মার্কে ২ টি করে ৫ টা বড় প্রশ্ন থাকে। যার প্রতিটির মান ২ করে। উদাহরণ: (৫*২=১০)। বাকি ১০ মার্কের জন্য ১০ টি এমসিকিউ প্রশ্ন দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এই পরীক্ষায় কোনো ভুল করলে মার্ক কাটা হয় না।
২. মৌখিক: লিখিত পরীক্ষায় পাস করার পর এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। একজন নটিক্যাল সার্ভেয়ার বা পরীক্ষা বোর্ডের সামনে প্রার্থীকে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় । কমপক্ষে ৫-১০ পযন্ত প্রশ্ন করা হয়। এখানে অনেক সময় ২/৩ টি কলম দ্বারা জাহাজ এর বিভিন্ন সিচুয়েশন ভাইভা বোর্ডকে বোঝাতে হয়। যেমন ক্রসিং সিচুয়েশন, ন্যারো চ্যানেলে ওভারটেক ইত্যাদি।
০৩. চক্ষু পরীক্ষা: উপরের দুটি পরীক্ষায় পাস করলে এবার চক্ষু পরীক্ষা নেওয়া হয়। এখানে চোখে কম দেখলে আবার ডাক্তার দেখিয়ে চশমা দিয়ে পরীক্ষা দিলে আপনাকে পাস দেওয়া হবে। তবে যদি কালার ব্লাইন্ড সমস্য অথবা চোখে বিভিন্ন কালার শনাক্ত করতে না পারেন তাহলে আপনাকে ফেইল ধরা হবে। ডাক্তার দেখিয়ে লাভ নেই। তাই উচিত প্রস্তুতিমূলক কোর্স করার আগে একজন চক্ষু ডাক্তারের কাছে নিজে চোখ পরীক্ষা করে নিন। অন্যথায় সবার শেষে এসে ধরা খেলে আপনার আম ছালা সব যাবে।
কিভাবে সেকেন্ড ক্লাস প্রস্তুতিমূলক কোর্স করবেন
প্রিয় নাবিক বন্ধুরা আপনি যদি সেকেন্ড ক্লাস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে তাহলে উপরের বেশ কয়েকটি আপনার জন্য সহজ। আপনার সবার প্রথমে উচিত হবে চাকরির সময়সীমা হয়েছে কিনা? যদি আপনি ২-৩ বছর জব করে থাকেন তাহলে শুরু করে দিন।
সবার আগে তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে আপনার সুযোগ সুবিধামতো মাসে প্রস্তুতিমূলক কোর্স ভর্তি হয়ে যান। ডেক এন্ড ইঞ্জিন কর্মী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সোনাকান্দা নারায়ণ গঞ্জ। তাদের নিজস্ব ওয়েব সাইটে গিয়ে কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন। সম্ভব না হলে সরাসরি তাদের অফিসে গিয়ে কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন। টাকা খরচ হবে ৪৬৬৫ টাকা আবেদন ফি সহ ৫০০০ টাকা।
আপনি ডিইপিটিসি ছাড়াও বরিশাল ডেক ও ইঞ্জিন কর্মী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বরিশাল শাখায় ভর্তি হতে পারবেন। সরাসরি তাদের অফিসে গিয়ে। এছাড়া এসপিটিআই মাদারিপুর, কুমারটেক মাদারিপুর শাখায় ও ভর্তি হতে পারবেন। সেখানে একই টাকা খরচ হবে আবেদন ফি সহ ৫০০০ টাকা।
কোথায় থাকবেন
যারা প্রস্তুতিমূলক কোর্স ভর্তি হবে তারা চাইলে সব সরকারি ট্রেনিং সেন্টার গুলোতে আবাসিক থাকতে পারবেন। সেখানে ৫০০০ টাকার মতো খরচ হবে। তবে যদি বাহিরে থাকতে চান তলে ৬০০০-৭০০০ টাকা খরচ হতে পারে।
নোট: একমাসের কোর্সটি সম্পন্ন করে আপনি এবার পরীক্ষার জন্য আবেদন এর প্রস্তুতি নিন।
কিভাবে সেকেন্ড ক্লাস মাস্টারশীপ পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া
বর্তমানে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অধিকাংশ প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজড। নিচে আবেদনের ধাপগুলো নিম্নরূপ:
ডাটাবেইজ আপডেট: সার্ভিস বুকে সহজ কথায় বললে আপনি এতোদিন যেই জাহাজে চাকরি করছেন সেটা সার্ভিস বুকে এন্টি করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে স্থানীয় নৌযান সার্ভে ও রেজিষ্টেশন অফিসে গেলেই একজন সার্ভেয়ার আপনার ডাটাবেজ আপডেট করে দিবে। এটা নিয়ে আরো বিস্তারিত জানুন আমাদের এই লেখাটা পড়েন ডাটাবেজ আপডেট করার এ টু জেট
অনলাইন আবেদন: নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে dos.gov.bd গিয়ে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করুন।
নথিপত্র আপলোড: আবেদন করতে হলে নিচের কাগজগুলো পিডিএফ জমা দিতে হবে।
ক. জাতীয় পরিচয়পত্র
খ. তৃতীয় শ্রেণির মাস্টার সার্টিফিকেট।
গ. দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টারশীপ প্রস্তুতিমূলক কোর্স
ঘ. বেসিক সেইফটি কোর্স

ফি প্রদান: নির্ধারিত সরকারি পরীক্ষা ফি ৭৫০ টাকা অনলাইন ব্যাংকিং পেমেন্ট গেটওয়ের সাহায্যে জমা দিতে হবে।
সবার শেষ কাজ
আবেদন করার পর আপনার পরবর্তী কাজ হলো মাঝে মাঝে সার্ভিস বুক চেক করা। পরীক্ষার ডেইট পান কিনা সে বিষয়ে খেয়াল করুন। এবং যেখানেই থাকুন ভালো ভাবে প্রিপারেশন নিন। আমাদের লেখা টা ভালো লাগলে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন।
সফলভাবে পাসের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস
বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান: নৌপরিবহন অধিদপ্তর বা বিভিন্ন শ্রেণির মাস্টারশীপ পরীক্ষার প্রশ্ন গুলো সংগ্র করে সমাধান করুন। আমাদের ওয়েবসাইটে বিগত বছরের প্রশ্ন পাওয়া যায়। মনে রাখাবেন ডিজিতে কিন্তু আগের প্রশ্ন থেকে কিন্তু সব পরীক্ষার গুলোতে প্রশ্ন করা হয়।